দেশের স্বাস্থ্যসেবা দেয়া প্রতিষ্ঠানগুলোয় জনবলের ঘাটতি পূরণে ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের ১৩ থেকে ১৬তম গ্রেডের শূন্য পদে জরুরি ভিত্তিতে জনবল নিয়োগ দেয়া হবে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের আওতাধীন এসব প্রতিষ্ঠানে নিয়োগে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
সম্প্রতি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ রুমীর সই করা ‘অতীব জরুরি’ এক চিঠিতে সংশ্লিষ্টদের এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দেয়া হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আওতাধীন সব পরিচালক ছাড়াও সিভিল সার্জন, হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক এবং সংশ্লিষ্ট উপপরিচালক ও সহকারী পরিচালকদের ওই চিঠি পাঠানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের গত ১৪ জুলাইয়ের মাসিক সমন্বয় সভার সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে চিঠিতে বলা হয়, এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের সর্বাধিক সমর্থনপ্রাপ্ত দলের নির্বাচনি ইশতেহার জাতীয় পর্যায়ের প্রতিশ্রুতিতে পরিণত হয়েছে। সেই আলোকে বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার আলোকে নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সব প্রতিষ্ঠানের জনবলের ঘাটতি পূরণের জন্য ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ফলে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের আওতাধীন সারা দেশের সব স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের ১৩ থেকে ১৬তম গ্রেডের শূন্য পদে জনবল নিয়োগে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো।
এ ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোয় নিয়োগে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে চিঠিতে সংশ্লিষ্টদের বেশকিছু নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে। এগুলো হলো-
১) নন-মেডিকেল কর্মচারী নিয়োগ বিধিমালা-২০১৮ অনুযায়ী পদোন্নতির মাধ্যমে বা সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে সব শূন্য পদে (১৩-১৬তম গ্রেড) জরুরি ভিত্তিতে জনবল নিয়োগের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
২) বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের আগে (অর্থাৎ ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ পর্যন্ত) যেসব স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে শূন্য পদে জনবল নিয়োগের জন্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি জারিসহ আবেদন গ্রহণ করা আছে, কিন্তু নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি, সেসব প্রতিষ্ঠানগুলোয় বর্তমান আরও শূন্য পদের ছাড়পত্র গ্রহণসহ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি জারি করবেন এবং ইতোপূর্বে গ্রহণকৃত আবেদনের সঙ্গে সমন্বয় করে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন।
৩) বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের আগে (অর্থাৎ ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ পর্যন্ত) যেসব স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে শূন্য পদে জনবল নিয়োগ সংক্রান্ত জটিলতা রয়েছে (মামলা বা প্রশাসনিক জটিলতা), সেসব জটিলতা দ্রুত নিষ্পত্তি করার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
৪) নন-মেডিকেল কর্মচারী নিয়োগ বিধিমালা-১৯৮৫ অনুযায়ী বিভাগীয় কার্যালয়সহ সিভিল সার্জনের নিয়ন্ত্রণাধীন বেশকিছু স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে ১৩তম গ্রেডের প্রধান সহকারী পদ রয়েছে। কিন্তু নন-মেডিকেল কর্মচারী নিয়োগ বিধিমালা-২০১৮ অনুযায়ী উক্ত পদগুলো ১৪তম গ্রেড হিসেবে অন্তর্ভুক্ত থাকায় পদোন্নতির ক্ষেত্রে জটিলতা রয়েছে, ফলে ১৪তম গ্রেডে কর্মরত প্রধান সহকারী বা উচ্চমান সহকারী কিংবা সমমান পদধারীদের ১৩তম গ্রেডের শূন্য পদগুলোয় নিজ বেতনে বা চলতি দায়িত্বে পদায়নের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
এ ছাড়াও চিঠিতে সংশ্লিষ্টদের সব স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ সংক্রান্ত অগ্রগতির তথ্য ‘নির্ধারিত ছকে’ প্রতি মাসের ৫ তারিখের মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ রুমী বরাবর হার্ডকপিসহ ই-মেইলে (hrm@ld.dghs.gov.bd) পাঠানোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
খুলনা গেজেট/এএজে

